অন্ডকোষ না থাকলে কি মানুষ বাঁচে? হ্যাঁ, একটি বা দুটি অন্ডকোষ না থাকলেও মানুষ বেঁচে থাকতে পারে। তবে দুটি অন্ডকোষই না থাকলে শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ঘাটতি দেখা দেয় এবং নতুন শুক্রাণু তৈরি হয় না। এর ফলে যৌনক্ষমতা, সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা এবং শারীরিক স্বাস্থ্যে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
আমি কিরণ মাহমুদ, GoponShastho.com-এর প্রতিষ্ঠাতা। ঢাকার মালিবাগে মিশন হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করতে সংকোচবোধ করেন। বিশেষ করে পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা অকারণে ভয় বাড়িয়ে দেয়।
অন্ডকোষ না থাকা মানেই জীবন শেষ নয়। তবে সমস্যাটি জন্মগত, দুর্ঘটনাজনিত নাকি অস্ত্রোপচারের কারণে হয়েছে, সেটি জানা জরুরি। আজ আমি বিষয়টি সহজভাবে ব্যাখ্যা করছি, যাতে আপনি অযথা ভয় না পেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
অন্ডকোষ না থাকলে কি মানুষ বাঁচে? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
অন্ডকোষ পুরুষের প্রজননব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তবে হৃদপিণ্ড, ফুসফুস বা মস্তিষ্কের মতো এটি সরাসরি জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য নয়। তাই একটি বা দুটি অন্ডকোষ অপসারণের পরও একজন মানুষ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারেন।
ক্যানসার, গুরুতর আঘাত কিংবা অন্য কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে কখনো অন্ডকোষ অপসারণ করতে হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অস্ত্রোপচারকে অর্কিয়েকটমি বলা হয়।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। অন্ডকোষ না থাকলে কি মানুষ বাঁচে এবং অন্ডকোষ ছাড়া শরীর আগের মতো কাজ করবে কি না—দুটি আলাদা প্রশ্ন।
একটি অন্ডকোষ না থাকলে অন্যটি সাধারণত হরমোন ও শুক্রাণু তৈরি করতে পারে। কিন্তু দুটি অন্ডকোষই না থাকলে হরমোনের ঘাটতি পূরণের জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার মাধ্যমে অনেকেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন।
অন্ডকোষ কী এবং শরীরে এর কাজ কী?
পুরুষাঙ্গের নিচে চামড়ার একটি থলি থাকে, যাকে অন্ডকোষের থলি বা স্ক্রোটাম বলা হয়। সাধারণত এর ভেতরে দুটি ডিম্বাকার অন্ডকোষ থাকে। এগুলোর প্রধান কাজ শুক্রাণু ও টেস্টোস্টেরন হরমোন তৈরি করা।
শুক্রাণু সন্তান জন্মদানের জন্য প্রয়োজন। অন্যদিকে টেস্টোস্টেরন পুরুষের যৌন আগ্রহ, পেশি, হাড়ের শক্তি এবং বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনেকে মনে করেন, অন্ডকোষ না থাকলে পুরুষাঙ্গও কাজ করবে না। ধারণাটি ঠিক নয়। কারণ পুরুষাঙ্গের গঠন, যৌন উত্তেজনা, বীর্যপাত এবং শুক্রাণু উৎপাদন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এগুলো একই কাজ নয়।
তাই অন্ডকোষ না থাকলে কি মানুষ বাঁচে জানতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে একটি অন্ডকোষ নেই, নাকি দুটি অন্ডকোষই নেই।
একটি অন্ডকোষ ও দুটি অন্ডকোষ না থাকলে কী পার্থক্য হয়?
অন্ডকোষের সংখ্যা অনুযায়ী শরীরের হরমোন ও প্রজননক্ষমতায় ভিন্ন প্রভাব পড়তে পারে। নিচের টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো তুলে ধরলাম।
| বিষয় | একটি অন্ডকোষ না থাকলে | দুটি অন্ডকোষ না থাকলে |
|---|---|---|
| জীবনধারণ | স্বাভাবিক জীবন সম্ভব | চিকিৎসার সাহায্যে স্বাভাবিক জীবন সম্ভব |
| টেস্টোস্টেরন | অন্যটি সুস্থ থাকলে সাধারণত যথেষ্ট তৈরি হয় | হরমোনের বড় ঘাটতি দেখা দেয় |
| শুক্রাণু উৎপাদন | অন্য অন্ডকোষে তৈরি হতে পারে | নতুন শুক্রাণু তৈরি হয় না |
| যৌনক্ষমতা | সাধারণত বজায় থাকে | হরমোনের ঘাটতিতে সমস্যা হতে পারে |
| সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা | অনেকের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক থাকে | আগে সংরক্ষিত শুক্রাণু থাকলে বিকল্প থাকতে পারে |
| চিকিৎসা | পরিস্থিতি অনুযায়ী পরীক্ষা | সাধারণত হরমোন চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন |
এই পার্থক্যগুলো সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য। ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং অন্ডকোষ হারানোর কারণ অনুযায়ী চিকিৎসার প্রয়োজন বদলে যেতে পারে।
একটি অন্ডকোষ না থাকলে কি স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়?
একটি অন্ডকোষ না থাকলেও অধিকাংশ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। অন্য অন্ডকোষটি সুস্থ থাকলে সাধারণত শরীরের প্রয়োজনীয় টেস্টোস্টেরন তৈরি হয়।
ফলে দৈনন্দিন কাজ, হাঁটাচলা, ব্যায়াম, দাম্পত্য জীবন এবং অন্যান্য স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
তবে কারও একটি অন্ডকোষ জন্ম থেকেই না থাকতে পারে। আবার কারও দুর্ঘটনা বা অস্ত্রোপচারের কারণে একটি অন্ডকোষ সরাতে হতে পারে। দুটি পরিস্থিতিতে চিকিৎসার প্রয়োজন এক রকম নাও হতে পারে।
অন্ডকোষ না থাকলে কি মানুষ বাঁচে নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার পাশাপাশি অন্য অন্ডকোষটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, সেটিও জানা প্রয়োজন।
বিশেষ করে যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন ক্লান্তি বা সন্তান নিতে সমস্যা হলে হরমোন ও শুক্রাণুর পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।
একটি অন্ডকোষ থাকলে কি সন্তান হয়?
হ্যাঁ, একটি অন্ডকোষ থাকলেও অনেক পুরুষ স্বাভাবিকভাবে সন্তানের বাবা হতে পারেন। কারণ একটি সুস্থ অন্ডকোষ থেকেই শুক্রাণু তৈরি হতে পারে।
তবে বিষয়টি সবার ক্ষেত্রে এক নয়। কারও শুক্রাণুর সংখ্যা কম থাকতে পারে। আবার আগের কোনো সংক্রমণ, আঘাত বা চিকিৎসার কারণে শুক্রাণুর গুণগত মানেও পরিবর্তন আসতে পারে।
এজন্য শুধু অন্ডকোষের সংখ্যা দেখে কারও সন্তান হওয়ার ক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়।
কোনো দম্পতি নিয়মিত চেষ্টা করার পরও সন্তান নিতে না পারলে প্রয়োজন অনুযায়ী বীর্য পরীক্ষা, হরমোন পরীক্ষা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়।
আমার পরামর্শ, একটি অন্ডকোষ থাকার কারণে আগেই নিজেকে সন্তান জন্মদানে অক্ষম মনে করবেন না। বরং প্রয়োজন হলে প্রজনন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।
দুটি অন্ডকোষ না থাকলে কি হয়?
দুটি অন্ডকোষ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকলে শরীর নতুন করে শুক্রাণু তৈরি করতে পারে না। পাশাপাশি টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা অনেক কমে যায়।
এর ফলে শরীরে ধীরে ধীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া, পেশি দুর্বল হওয়া, ক্লান্তি এবং দীর্ঘমেয়াদে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া।
তবে অন্ডকোষ না থাকলে কি মানুষ বাঁচে—এই প্রশ্নের উত্তর এখানেও হ্যাঁ। টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি পূরণের জন্য চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি দিতে পারেন।
এই চিকিৎসার উদ্দেশ্য শরীরের প্রয়োজনীয় হরমোনের মাত্রা বজায় রাখা। এটি নতুন শুক্রাণু তৈরি করতে পারে না এবং হারিয়ে যাওয়া অন্ডকোষও ফিরিয়ে আনে না।
চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে রোগীর বয়স, অন্যান্য অসুখ এবং রক্ত পরীক্ষার ফলের ওপর। তাই নিজে থেকে হরমোনের ইনজেকশন বা ট্যাবলেট ব্যবহার করা উচিত নয়।
অন্ডকোষ না থাকলে যৌনক্ষমতা কি নষ্ট হয়ে যায়?
যৌনক্ষমতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল ধারণা দেখা যায়। অনেকে মনে করেন, অন্ডকোষ না থাকলেই পুরুষের যৌনসম্পর্ক করার ক্ষমতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়।
একটি অন্ডকোষ সুস্থ থাকলে সাধারণত যৌন আগ্রহ ও উত্থানক্ষমতা বজায় থাকে। কিন্তু দুটি অন্ডকোষ না থাকলে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার কারণে যৌন আগ্রহ এবং উত্থানে সমস্যা হতে পারে।
এখানে আরও একটি বিষয় বোঝা জরুরি। যৌন উত্তেজনা, বীর্যপাত এবং সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা এক নয়।
অন্ডকোষ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকলেও কারও বীর্যপাত হতে পারে। কারণ বীর্যের তরল অংশের বেশির ভাগ তৈরি হয় প্রোস্টেট ও সেমিনাল ভেসিকলে। তবে নতুন শুক্রাণু তৈরি হওয়ার জন্য অন্ডকোষ প্রয়োজন।
তাই অন্ডকোষ না থাকলে কি মানুষ বাঁচে প্রশ্নের সঙ্গে যৌনক্ষমতার বিষয়টি মিলিয়ে অকারণে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে তার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।
অন্ডকোষ ছাড়া কি সন্তান হয়?
দুটি অন্ডকোষই সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকলে নতুন শুক্রাণু তৈরি হয় না। ফলে নিজের শরীর থেকে নতুন শুক্রাণু ব্যবহার করে স্বাভাবিকভাবে সন্তান নেওয়া সম্ভব নয়।
তবে অস্ত্রোপচারের আগে শুক্রাণু সংরক্ষণ করা থাকলে ভবিষ্যতে বিশেষায়িত প্রজনন চিকিৎসার মাধ্যমে সেটি ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে।
এজন্য সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে অন্ডকোষ অপসারণের আগেই বিষয়টি চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে তিনটি বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া ভালো:
- অস্ত্রোপচারের আগে শুক্রাণু সংরক্ষণ করা সম্ভব কি না।
- অন্য অন্ডকোষ থাকলে সেটির কার্যক্ষমতা কেমন।
- ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার জন্য কোন চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে।
মনে রাখবেন, টেস্টোস্টেরন হরমোনের চিকিৎসা সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার চিকিৎসা নয়।
জন্মের পর অন্ডকোষ দেখা না গেলে কি সেটি নেই?
অনেক সময় শিশুর জন্মের পর অন্ডকোষের থলি খালি দেখা যায়। তখন পরিবারের সদস্যরা মনে করেন, শিশুটির অন্ডকোষ জন্ম থেকেই নেই।
কিন্তু থলিতে অন্ডকোষ দেখা না যাওয়ার অর্থ সব সময় অন্ডকোষ অনুপস্থিত থাকা নয়।
কিছু শিশুর অন্ডকোষ পেটের ভেতরে বা কুঁচকিতে থেকে যায়। একে আনডিসেন্ডেড টেস্টিস বলা হয়। আবার কিছু শিশুর অন্ডকোষ সাময়িকভাবে থলি থেকে ওপরে উঠে যেতে পারে।
অন্ডকোষ না নামার কারণ সব সময় নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। তবে সময়ের আগে জন্মানো শিশু এবং জন্মের সময় কম ওজনের শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
শিশুর একটি অন্ডকোষ চার থেকে পাঁচ মাস বয়সেও থলিতে না নামলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার। দুটি অন্ডকোষই না থাকলে আরও আগে পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
তাই ছোট শিশুর ক্ষেত্রে অন্ডকোষ না থাকলে কি মানুষ বাঁচে এমন চিন্তা করার আগে অন্ডকোষ কোথায় রয়েছে, সেটি নিশ্চিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অন্ডকোষ অপারেশনের পর জীবন কেমন হয়?
ক্যানসার, গুরুতর দুর্ঘটনা কিংবা অন্ডকোষের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কখনো অন্ডকোষ অপসারণ করতে হয়।
একটি অন্ডকোষ অপসারণের পর অন্যটি সুস্থ থাকলে অনেকেই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে যেতে পারেন।
কিন্তু দুটি অন্ডকোষ সরাতে হলে পরিস্থিতি আলাদা। তখন শরীরে হরমোনের ঘাটতি পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হয়।
অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতের যত্ন নেওয়া, ওষুধ ব্যবহার এবং ফলোআপ করা গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু মানুষের অন্ডকোষ অপসারণের পরে শরীরের গঠন নিয়ে মানসিক অস্বস্তি হয়। প্রয়োজনে কৃত্রিম অন্ডকোষ বসানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এটি শুধু বাহ্যিক গঠনের জন্য, হরমোন বা শুক্রাণু তৈরি করতে পারে না।
সুতরাং অন্ডকোষ না থাকলে কি মানুষ বাঁচে প্রশ্নের উত্তর জানার পাশাপাশি অপারেশনের পর কী ধরনের যত্ন প্রয়োজন, সেটিও বোঝা জরুরি।
টেস্টোস্টেরন হরমোনের অভাব হলে কী সমস্যা হয়?
টেস্টোস্টেরন পুরুষের শরীরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে দুটি অন্ডকোষ না থাকলে এই হরমোনের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
টেস্টোস্টেরন হরমোনের অভাব হলে কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে:
- যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন ক্লান্ত অনুভব করা।
- পেশির পরিমাণ ও শারীরিক শক্তি কমে যাওয়া।
- মেজাজের পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া।
তবে শুধু এসব লক্ষণ দেখে টেস্টোস্টেরন কমে গেছে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক সমস্যাতেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসক সাধারণত উপসর্গ বিবেচনা করে সকালে রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষা করতে বলেন।
নিজে থেকে হরমোন চিকিৎসা শুরু না করে পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যাটি নিশ্চিত করা উচিত।
অন্ডকোষের কোন সমস্যায় দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন?
অন্ডকোষে সব ধরনের সমস্যা সমান গুরুতর নয়। যেমন অন্ডকোষের থলিতে অস্বস্তি, ত্বকের লালচে ভাব অথবা অন্ডকোষে চুলকানি অনেক সময় ত্বকের সংক্রমণ বা অন্য কারণে হতে পারে। এগুলোর সঙ্গে অন্ডকোষ অনুপস্থিত থাকার সরাসরি সম্পর্ক নেই।
তবে হঠাৎ তীব্র অন্ডকোষ ব্যথা হলে বিষয়টি জরুরি। কারণ অন্ডকোষ পেঁচিয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে টেস্টিকুলার টরশন বলা হয়।
বিশেষ করে হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা, দ্রুত ফুলে যাওয়া কিংবা ব্যথার সঙ্গে বমি হলে দেরি না করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে।
একইভাবে অন্ডকোষে নতুন গুটি, অস্বাভাবিক শক্ত অংশ অথবা আকারের পরিবর্তন দেখা দিলেও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
অন্ডকোষ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা
পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কিছু ভুল ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, একটি অন্ডকোষ না থাকলে পুরুষত্ব বা যৌনক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে যায়।
আসলে একটি সুস্থ অন্ডকোষ অনেক সময় প্রয়োজনীয় হরমোন ও শুক্রাণু তৈরি করতে পারে।
আবার অনেকে মনে করেন, দীর্ঘদিন স্বপ্নদোষ না হওয়া মানেই অন্ডকোষে সমস্যা আছে। বাস্তবে স্বপ্নদোষ হওয়া বা না হওয়ার ওপর ভিত্তি করে অন্ডকোষের কার্যক্ষমতা নির্ণয় করা যায় না।
অন্ডকোষ না থাকলে কি মানুষ বাঁচে—এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় প্রচলিত ধারণার বদলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত তথ্যের ওপর নির্ভর করা উচিত।
অন্ডকোষ না থাকলে কি মানুষ বাঁচে: সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
অন্ডকোষ ছাড়া কত বছর বেঁচে থাকা যায়?
অন্ডকোষ না থাকার কারণে মানুষের আয়ুর নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা সম্ভব।
একটি অন্ডকোষ না থাকলে কি বিয়ে করা যায়?
হ্যাঁ। একটি অন্ডকোষ না থাকা বিয়ে বা স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনের বাধা নয়। অন্য অন্ডকোষ সুস্থ থাকলে অনেকের যৌনক্ষমতা ও প্রজননক্ষমতা বজায় থাকে।
দুটি অন্ডকোষ না থাকলে কি বীর্য বের হয়?
হ্যাঁ, বীর্যপাত হতে পারে। কারণ বীর্যের বেশির ভাগ তরল অন্ডকোষের বাইরে অন্য গ্রন্থিতে তৈরি হয়। তবে দুটি অন্ডকোষ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকলে নতুন শুক্রাণু তৈরি হয় না।
অন্ডকোষ না থাকলে কি পুরুষাঙ্গ ছোট হয়ে যায়?
একটি অন্ডকোষ না থাকলে সাধারণত পুরুষাঙ্গ ছোট হয়ে যায় না। তবে বয়ঃসন্ধির আগে দুটি অন্ডকোষ অনুপস্থিত থাকলে হরমোনের অভাবে স্বাভাবিক যৌনাঙ্গের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
অন্ডকোষ কি ওষুধ খেয়ে আবার তৈরি করা যায়?
না। জন্মগতভাবে অনুপস্থিত বা অস্ত্রোপচারে অপসারিত অন্ডকোষ ওষুধের মাধ্যমে নতুন করে তৈরি করা যায় না। তবে হরমোনের ঘাটতি থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।
অন্ডকোষ না থাকলে কি মানুষ বাঁচে এবং স্বাভাবিক কাজ করতে পারে?
হ্যাঁ। একটি বা দুটি অন্ডকোষ না থাকলেও কাজকর্ম ও দৈনন্দিন জীবন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে দুটি না থাকলে সাধারণত হরমোনের চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা প্রয়োজন হয়।
শেষ কথা: অন্ডকোষ না থাকলেও সুস্থ জীবন সম্ভব
অন্ডকোষ না থাকলে কি মানুষ বাঁচে—আশা করি এতক্ষণে বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। একটি অন্ডকোষ না থাকলে অন্যটি অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে। অন্যদিকে দুটি অন্ডকোষ না থাকলেও জীবনধারণ সম্ভব, তবে হরমোন ও প্রজননক্ষমতার পরিবর্তন বিবেচনায় চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
আমি কিরণ মাহমুদ। ব্যক্তিগত ও প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের অপ্রয়োজনীয় ভয় দূর করা আমার লেখালেখির অন্যতম উদ্দেশ্য। অন্ডকোষ নিয়ে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা সন্দেহ থাকলে সংকোচ না করে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। কারণ সঠিক সময়ে সমস্যা শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই সুস্থ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায়।

আমি Kiran Mahmud, ঢাকার একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে কর্মরত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। মানুষের গোপন শারীরিক সমস্যাগুলো নিয়ে সচেতনতা তৈরি এবং সঠিক তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি দূর করাই আমার লক্ষ্য।